ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তোলাবাজি মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে থাকা এই প্রভাবশালী নেতাকে হাফ প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা অবস্থায় এলাকায় ঘোরাতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। সেই ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য জাহাঙ্গির খানকে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযানের সময় তাঁর পোশাক এবং জনসমক্ষে উপস্থিতির ধরন ঘিরেই মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, যাঁকে এতদিন এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দেখা গিয়েছে, তাঁকে এই অবস্থায় দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ভারত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করে। পরে ডায়মন্ড হারবার আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল, মারধর-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
এই ঘটনা সামনে আসতেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে অভিযুক্তদের জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। সম্প্রতি হাওড়ায় এক অভিযুক্তকে হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরিয়ে রাস্তায় হাঁটানোর ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় এক ধৃত রাজনৈতিক নেতাকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানোর ঘটনাও সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইতিমধ্যেই এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের এভাবে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা মানবাধিকার ও আইনি মর্যাদার পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশিকাতেও ধৃত ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে জনসমক্ষে অপমান না করার কথা বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার প্রসঙ্গকে ফের সামনে এনে দিয়েছে।