কলকাতার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের উপর ডিম হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর কালীঘাটের বাসভবন থেকে বের হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কুণাল ঘোষ। সেই সময় আচমকাই এক যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কুণাল ঘোষ নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ডিমটি তাঁর মাথায় গিয়ে লাগে।
ঘটনার পর এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযুক্ত যুবকের নাম চন্দন বলে জানা গিয়েছে। তিনি নিজেকে স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি করেন। হামলার পর সাংবাদিকদের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “অনেক অন্যায় করেছে। এটা ওনার প্রাপ্য ছিল। উনি কী কী করেছেন সবাই জানে। নতুন করে আর কিছু বলার নেই।” এরপরই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
ডিম হামলার ঘটনার পর কুণাল ঘোষও সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “মমতাদির বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। দুটি ছেলে আমার একেবারে কাছাকাছি ছিল। আমি নিরস্ত্র অবস্থায় ছিলাম। একজন আচমকা ডিম ছুড়ে পালিয়ে গেল। আশ্চর্যের বিষয়, কেউ কোনও প্রতিবাদ করল না, বাধা দিল না কিংবা তাদের আটকানোর চেষ্টাও করল না।”অভিযুক্তের অত্যাচারের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে কুণাল বলেন, “কে অত্যাচার করেছে? আমি করেছি? মমতাদি করেছে? যদি কিছু হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসন বা আইন নিজের কাজ করেছে। তার দায় আমার হতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। তাঁর বাড়ির এত কাছাকাছি এমন ঘটনা ঘটল, তাহলে নিরাপত্তা কোথায় ছিল?”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূলের একাধিক নেতা-নেত্রী ডিম হামলার মুখে পড়েছেন। এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে কালীঘাটে কুণাল ঘোষের উপর এই হামলা রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।