সন্তোষপুরে ‘হাতি বাড়ি’ ঘিরে বিতর্ক, তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সন্তোষপুরে তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিলাসবহুল বাড়ি ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বাড়ি এলাকাবাসীর কাছে ‘হাতি বাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত। বাড়ির প্রবেশপথে বিশাল হাতির মাথার নকশা এবং তার উপরে নির্মিত বহুতল অট্টালিকা সহজেই নজর কাড়ে সাধারণ মানুষের। বাড়ির বাহ্যিক চাকচিক্য এবং বিলাসবহুল পরিকাঠামো ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে এই জায়গায় একটি দোতলা বিয়েবাড়ি ছিল। পরবর্তীকালে সেই জায়গায় ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে বর্তমানের এই বিশাল নির্মাণ। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, বাড়ির নির্মাণকাজ এবং সাজসজ্জা দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। বর্তমানে বাড়িটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক নানা সুবিধা। দামি মার্বেলে মোড়া একাধিক তলা, লিফট ব্যবস্থা, কাচে ঘেরা বিশেষ গ্লাস রুম, আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং মূল্যবান আসবাবপত্র বাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে এই বিলাসবহুল বাড়িকে ঘিরে এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সমালোচকদের দাবি, একজন কাউন্সিলরের সরকারি ভাতা সীমিত হওয়ায় এত বড় এবং ব্যয়বহুল নির্মাণের অর্থের উৎস কী, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তিনি অভিনয় জগতেরও পরিচিত মুখ। একাধিক বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে তাঁর আয়ের উৎস এবং সম্পত্তি নির্মাণের ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে এখনও জল্পনা অব্যাহত।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ প্রকাশ্যে এই বাড়ি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, মিনু রানি ভাওয়াল নামে এক মহিলার কাছ থেকে একটি দোতলা বাড়ি কেনার পর সেটিকে সম্প্রসারণ করে বহুতল ভবনে রূপান্তরিত করা হয়। পাশাপাশি বাড়ির পিছনের জমি কিনে সেখানে আরও একটি বহুতল নির্মাণ করে দু’টি অংশকে একত্রিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের সমর্থনে কিছু নথিও প্রকাশ্যে আনেন সজল ঘোষ।যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি নিষ্পত্তি হয়নি। তবে সন্তোষপুরের এই বহুল আলোচিত ‘হাতি বাড়ি’ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং জনমহলের কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে।