বলিউডে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার পর হলিউডেও সফল কেরিয়ার গড়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না।সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত কান লায়ন্স সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন।একজন বহিরাগত হিসেবে কীভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিতে হয়েছে,সেই অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।প্রিয়াঙ্কা জানান,তাঁর বাবা-মা দু’জনেই চিকিৎসক ছিলেন।ফলে চলচ্চিত্র জগতের নিয়মকানুন বা সেখানে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা ছিল না।পরিবারের কেউ বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় শুরু থেকেই তাঁকে নিজের যোগ্যতা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর ভরসা করেই এগোতে হয়েছে।
কানের মঞ্চে প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন,একসময় তাঁকে বলা হয়েছিল ভারতীয় সিনেমা কখনও বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।কারণ ভারতীয় ছবির ভাষা ইংরেজি নয় এবং বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ হিন্দি,তেলুগু,মারাঠি বা অন্যান্য ভারতীয় ভাষা বোঝেন না।সেই কারণেই আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে ভারতীয় সিনেমা পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে অনেকের ধারণা ছিল।তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলে গেছে।পঞ্চাশের দশক থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতীয় ছবির জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছিল।পরে ২০০০ সালের পর‘মুথু’,‘দঙ্গল’, ‘সিক্রেট সুপারস্টার’এবং ‘আরআরআর’-এর মতো ছবি চীন,জাপান,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ একাধিক দেশে ব্যাপক সাফল্য পায়।এসব ছবি প্রমাণ করেছে,ভাষা নয়,শক্তিশালী গল্পই দর্শকের মন জয় করে।
২০০০ সালে মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হওয়ার পর একই বছর মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট জেতেন প্রিয়াঙ্কা।তিন বছর পরে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।এরপর একের পর এক সফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।২০১৫ সালে কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে‘কোয়ান্টিকো’সিরিজের মাধ্যমে হলিউডে নতুন যাত্রা শুরু করেন।পরে‘বেওয়াচ’,‘দ্য ম্যাট্রিক্স: রেসারেকশনস’ও ‘সিটাডেল’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।বর্তমানে ‘হেডস অফ স্টেট’ এবং‘দ্য ব্লাফ’-এর মতো ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করে চলেছেন,ভারতীয় শিল্পীরাও আজ বিশ্বমঞ্চে সমান দক্ষতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম।