হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে যাওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি (LPG) উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পর বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বাণিজ্যিক (Commercial) এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহের উপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে। এর ফলে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আগে যে পরিমাণে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হতো, ধাপে ধাপে সেই স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। এই সিদ্ধান্তে দেশের বিভিন্ন শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্র বড় স্বস্তি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং পরিষেবা, খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রতিদিনের কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ এলপিজির প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রের এলপিজি গ্রাহকদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যে বাল্ক এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল, সেটিও এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হচ্ছে। আপাতত বাল্ক এলপিজি সরবরাহ আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের আশা, এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ কমবে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব খাদ্যপণ্যের বাজারেও পড়বে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমতে পারে।
তবে এখনও কমার্শিয়াল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রাহকদের জন্য পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি (PNG) সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, সাধারণ গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য পর্যাপ্ত এলপিজি নিশ্চিত করতে কেন্দ্র আগে জরুরি ভিত্তিতে ESMA (Essential Commodities Act)-এর আওতায় বিশেষ নির্দেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী C3 ও C4 হাইড্রোকার্বন স্ট্রিমকে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহার না করে এলপিজি উৎপাদনে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বহু পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থাকে উৎপাদন কমাতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকার সেই বিধিনিষেধ আংশিক শিথিল করেছে। এখন C3 ও C4 স্ট্রিম আবার পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য ডাউনস্ট্রিম শিল্পে ব্যবহার করা যাবে। তবে এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে—দেশে প্রতিদিন ৪০ হাজার টনের বেশি এলপিজি উৎপাদন বজায় রাখতে হবে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন গৃহস্থালি এলপিজির সরবরাহ সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে শিল্প উৎপাদনও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারবে।