ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের ইতি টানার পর নতুনভাবে জীবনকে দেখছেন অভিনেত্রী মৌনি রায়।স্বামী সুরজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হলেও তিনি এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মৌনি জানিয়েছেন,জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে যে ক্ষোভ,রাগ কিংবা অভিমান দীর্ঘদিন ধরে মনে পুষে রাখলে তা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নিজেরই।তাই এখন তিনি বিশ্বাস করেন,অতীতের কষ্টকে আঁকড়ে ধরে থাকার পরিবর্তে তা ছেড়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা।তাঁর মতে, জীবনের প্রতিটি কঠিন অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও পরিণত করে এবং নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।
অভিনেত্রী জানান,ছোটবেলায় তিনি মানুষকে সহজেই ক্ষমা করতে পারতেন,কিন্তু কোনও আঘাত বা বিশ্বাসভঙ্গের স্মৃতি সহজে ভুলতে পারতেন না।সেই ঘটনাগুলো দীর্ঘদিন তাঁর মনে থেকে যেত এবং বারবার কষ্টের কারণ হয়ে উঠত। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে পুরনো ক্ষতকে বয়ে বেড়ানো মানসিক শান্তি নষ্ট করে।বরং কাউকে ক্ষমা করে দেওয়া মানে নিজের মনকে মুক্ত করা।মৌনির কথায়,অনেক সময় যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্ট দেয়,সে হয়তো সেই ঘটনার কথা পরবর্তীতে আর মনে রাখে না,অথচ আঘাত পাওয়া মানুষটি সেই স্মৃতি বয়ে বেড়ায়।তাই নেতিবাচক অনুভূতি থেকে মুক্ত হয়ে ইতিবাচকভাবে জীবনকে দেখার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত স্বস্তি।
মৌনি আরও জানান,তাঁর এই মানসিক পরিবর্তনের পেছনে আধ্যাত্মিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।নিয়মিত ধ্যান, জপ এবং আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি নিজের ভিতরের শান্তিকে খুঁজে পেয়েছেন।তবে ক্ষমা করার অর্থ যে সবকিছু মেনে নেওয়া নয়,সেটিও স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।তাঁর মতে,কোনও সম্পর্ক বা মানুষের আচরণ যদি বারবার কষ্টের কারণ হয়ে ওঠে,তাহলে নিজের সীমারেখা তৈরি করা এবং মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াও জরুরি।উল্লেখ্য,২০২২ সালে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ব্যবসায়ী সুরজ নাম্বিয়ারকে বিয়ে করেছিলেন মৌনি রায়। চলতি বছরের মে মাসে দু’জনে যৌথভাবে তাঁদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান এবং এই কঠিন সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করার জন্য সকলের কাছে আবেদন করেন।