কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গোডাউনের ছাদ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার দুপুরে। ব্রেসব্রিজ ট্রান্সপোর্ট ডিপোর কাছে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৩ জনকে। আহতদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে কয়েকজন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন।
দুর্ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল, পুলিশ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীকেও ডাকা হয়। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি, ড্রিল মেশিন এবং কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে জল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই ওই গোডাউনের নির্মাণকাজ চলছিল। বুধবারও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কাজের ফাঁকে কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লোহার বিম, কংক্রিট এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক।
ঘটনাস্থলে পৌঁছান মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অগ্নিমিত্রা পাল এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পরে সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরে নবান্নে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নির্মীয়মাণ গোডাউনটির নকশা ও নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। অভিযোগ, নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম ও নিরাপত্তাবিধি মানা হয়নি। জানা গিয়েছে, জমিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের লিজ দেওয়া জমি। স্থানীয়দের একাংশ এবং বিজেপি নেতা রাকেশ সিং দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ বেআইনি ও গাফিলতিপূর্ণভাবে নির্মাণকাজ চলছিল। ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নবান্ন কন্ট্রোল রুম খুলেছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য হেল্পলাইন নম্বর হিসেবে 1070, 8697981070, 033-22143526 এবং 033-22535185 প্রকাশ করা হয়েছে।