আজ বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন।কিন্তু তাঁর এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না।২০০৭ সালে ‘ওম শান্তি ওম’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।প্রথম ছবিতেই তাঁর বিপরীতে ছিলেন শাহরুখ খান,ফলে প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া।সম্প্রতি পরিচালক ফারাহ খান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন,নতুন মুখ হিসেবে দীপিকাকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করার আগে তিনি কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি।তাই কয়েক মাস ধরে তাঁকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ,লুক টেস্ট,নাচের রিহার্সাল এবং ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠার জন্য বিশেষ প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।
তবে সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো,শুটিংয়ের প্রথম ১০ দিন দীপিকাকে কোনও দৃশ্যে অভিনয়ই করতে দেওয়া হয়নি।ফারাহ তাঁকে প্রতিদিন সেটে এসে শুধু বসে থাকতে এবং পর্যবেক্ষণ করতে বলেছিলেন।বিশেষ করে শাহরুখ খান এবং শ্রেয়স তলপাড়ে কীভাবে শটের জন্য প্রস্তুতি নেন,সংলাপ বলেন,ক্যামেরার সামনে নিজেদের উপস্থাপন করেন এবং পরিচালকের নির্দেশ মেনে কাজ করেন,সেসব খুঁটিনাটি মন দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফারাহর মতে,একজন নতুন অভিনেত্রীর জন্য অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ অত্যন্ত মূল্যবান।এই ১০ দিন ছিল দীপিকার জন্য এক ধরনের বাস্তব প্রশিক্ষণ,যা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সাহায্য করেছিল।
ফারাহর সেই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল,তা প্রমাণ করেছে সময়।‘ওম শান্তি ওম’ মুক্তির পর থেকেই দীপিকা দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন এবং রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন।শাহরুখ-দীপিকা জুটিও হয়ে ওঠে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি।পরে চেন্নাই এক্সপ্রেস,হ্যাপি নিউ ইয়ার এবং পাঠান-এর মতো একাধিক সফল ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা।এবার পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের‘কিং’ ছবিতে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে এই দুই তারকাকে।এরই মধ্যে ফারাহর এই অজানা স্মৃতিচারণ প্রকাশ্যে আসতেই তা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।অনেকের মতে,একজন নতুন শিল্পীকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফারাহর এই ধৈর্যশীল ও অভিনব পদ্ধতিই দীপিকার সফল কেরিয়ারের অন্যতম ভিত্তি তৈরি করেছিল।