নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। তার নথি যাচাই করে দেখা যায়, বিয়ে হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়। হাসপাতালের অভিযোগে শনিবার নাবালিকার স্বামীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।গত বুধবার প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে এক নাবালিকাকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তার বয়স সংক্রান্ত নথি যাচাই করে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেয়। এর পরেই গ্রেপ্তার করা হয় স্বামীকে।
বাল্যবিবাহে কারা মদত দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে দুই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও খোঁজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া হয় কিশোরীকে। বিয়ের পরে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কী ভাবে এই বিয়ে হলো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।গত কয়েক মাসে বালুরঘাট শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নাবালিকার এ ভাবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর সামনে এসেছে। শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, শহর এলাকাতেও বাল্যবিবাহের প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সরকারি হাসপাতালে প্রসবের জন্য নিয়ে আসার পরে অনেক ঘটনা সামনে এলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা। সমাজকর্মী সুরজ দাস বলেন, ‘কন্যাশ্রী ও রূপশ্রীর মতো প্রকল্প চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ এখনও বাল্যবিবাহের নিরিখে উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩-২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রায় ২০ শতাংশ নাবালিকার গর্ভধারণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। সেই হার কিছুটা কমলেও এখনও ১৫ শতাংশের বেশি রয়েছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে।’