টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা হর্ষদ চোপড়া দীর্ঘদিন ধরেই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে ক্যামেরার আড়ালে রেখেছেন।অসংখ্য ভক্ত থাকা সত্ত্বেও প্রেম কিংবা সম্পর্ক নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে সম্প্রতি একটি রিয়্যালিটি শোয়ে অংশ নিয়ে জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা প্রথমবার সকলের সামনে তুলে ধরেন অভিনেতা।তিনি জানান,প্রায় ১৬ বছর আগে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল,যা তাঁর মানুষের উপর থেকে বিশ্বাসই প্রায় তুলে দিয়েছিল।হর্ষদের কথায়, জীবনের সবচেয়ে কাছের দুই মানুষ—তাঁর প্রেমিকা এবং সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু—একসঙ্গে তাঁকে প্রতারণা করেছিলেন। সেই ঘটনার ধাক্কা এতটাই গভীর ছিল যে এরপর থেকে কাউকে সহজে বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি।
রিয়্যালিটি শোয়ের সঞ্চালক ফরাহ খান ও রিতেশ দেশমুখ জানতে চান,এত জনপ্রিয় হওয়ার পরও কেন তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবসময় নীরব থাকেন।উত্তরে হর্ষদ জানান,তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা গোপনে তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।বিষয়টি জানতে পেরে তিনি একইসঙ্গে প্রেম এবং বন্ধুত্ব—দুটোই হারান। অভিনেতার কথায়,এই যন্ত্রণার কথা তিনি এতদিন কারও সঙ্গে ভাগ করে নেননি।পুরনো সেই স্মৃতি মনে করতে গিয়ে শোয়ের মঞ্চেই আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি।তাঁর চোখে জল দেখে উপস্থিত প্রতিযোগী ও অতিথিরাও আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দেন।এই ঘটনাই তাঁকে জীবনের প্রতি আরও সতর্ক এবং সংযত করে তুলেছিল বলে জানান হর্ষদ।
বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী হর্ষদ চোপড়া ২০০৬ সালে ‘মমতা’ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেন।এরপর’লেফ্ট রাইট লেফ্ট’তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।পরবর্তীতে’কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল’,’তেরে লিয়ে’,’ধরমপত্নী’,’হমসফর’,’বেপনাহ’,’ইয়ে রিশতা কেয়া কহলাতা হ্যায়’এবং’বড়ে আচ্ছে লগতে হ্যায়’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন।এছাড়াও’কহানি হামারে মহাভারত কি’ ধারাবাহিকে অর্জুনের চরিত্রে তাঁর অভিনয়ও বিশেষ প্রশংসিত হয়েছিল।ব্যক্তিগত জীবনের গভীর কষ্ট পেরিয়েও অভিনয়ের জগতে নিজের সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছেন হর্ষদ,আর তাঁর সাম্প্রতিক এই স্বীকারোক্তি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে অভিনেতাকে।