বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।প্রায় দেড় দশক ধরে অনুষ্ঠানটির মুখ ছিলেন অভিনেত্রী ও তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।দর্শকদের কাছে‘দিদি নম্বর ১’মানেই যেন রচনা— এমন ধারণা বহুদিন ধরেই তৈরি হয়েছিল।তাই আচমকা নতুন সিজনের প্রোমোয় সঞ্চালকের আসনে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে দেখে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে আলোচনা।অনেকের ধারণা ছিল রাজনৈতিক দায়িত্ব ও ব্যস্ততার কারণেই হয়তো অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন রচনা।তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন,তাঁর বিদায়ের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের।রচনার কথায়,চ্যানেল নতুনভাবে অনুষ্ঠানকে সাজাতে চেয়েছে এবং সেই কারণেই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।যদিও এই সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিয়েছেন,তবু দীর্ঘদিনের একটি সফল যাত্রার সমাপ্তি তাঁকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
তবে বিদায়ের পাশাপাশি নতুন টিমের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।তাঁর মতে, গত ১৫ বছরে অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা তৈরি ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।তাই এখন চ্যানেল এবং নতুন সঞ্চালকের দায়িত্ব প্রমাণ করা যে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও‘দিদি নম্বর ১’ সমান সফল হতে পারে।অভিনেত্রী জানিয়েছেন,তিনি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়েছেন এবং অনুষ্ঠানটিকে পরিবারের মতো ভালোবেসে কাজ করেছেন। তাই দর্শকদের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতার সেই ধারাবাহিকতা নতুন টিম কতটা বজায় রাখতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে তাঁর।যদিও তিনি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও পুরো টিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন,তবুও নিজের অবদান সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি।
তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁকে অনুষ্ঠান থেকে সরানোর পদ্ধতি নিয়ে।রচনার অভিযোগ,মাত্র দু’দিনের নোটিশে তাঁকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত অমানবিক ও অশোভন বলে মনে হয়েছে। চুক্তিতে এমন নিয়ম থাকলেও ১৫ বছরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও সম্মান ও সৌজন্য দেখানো উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।শুধু নিজের নয়,দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকা কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।তাঁর বক্তব্য,তিনি নিজে নতুন কাজ খুঁজে নিলেও অনেক কর্মীর জীবিকা এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিল।ফলে‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালক পরিবর্তনের ঘটনা এখন শুধু বিনোদন জগতের খবর নয়,বরং পেশাদার সম্পর্ক,কর্মসংস্থান এবং নৈতিকতার প্রশ্নেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।