জুলাইয়ের শুরুতেই বঙ্গোপসাগরে বছরের প্রথম নিম্নচাপের সম্ভাবনা, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত আগামী ২ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে চলতি বর্ষা মরশুমের প্রথম নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় এই ঘূর্ণাবর্ত দ্রুত জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ধীরে ধীরে স্থলভাগের দিকে এগোতে শুরু করলে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গ ও উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলায় আগামী সপ্তাহে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সোমবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করবে এবং সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন জেলায় হলুদ ও কমলা সতর্কতা জারি থাকতে পারে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে এখনও ভারী বৃষ্টির জেরে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। এছাড়া উত্তর দিনাজপুরে কমলা সতর্কতা এবং দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবারের পর উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও ঠিক সেই সময় থেকেই দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। কলকাতায় আপাতত আকাশ আংশিক থেকে সম্পূর্ণ মেঘলা থাকলেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে নিম্নচাপ স্থলভাগের আরও কাছে এলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপের প্রভাব শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।