সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের, হাসপাতাল-স্টেশন-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে পথকুকুরমুক্ত
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের সমস্ত মন্ত্রক এবং তাদের অধীনস্থ দফতরগুলিকে হাসপাতাল, রেলস্টেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্টেডিয়াম, স্পোর্টস কমপ্লেক্স-সহ বিভিন্ন সরকারি অফিস চত্বর সম্পূর্ণভাবে পথকুকুরমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুকুরের কামড়ে আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচিল, গেট বা বেড়া দিয়ে নিজেদের চত্বর সুরক্ষিত রাখতে হবে যাতে পথকুকুর সহজে প্রবেশ করতে না পারে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে, যিনি গোটা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। ওই আধিকারিকের নাম ও যোগাযোগের তথ্য প্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বারে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পুর কর্তৃপক্ষকেও তা জানাতে হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, রেল, প্রতিরক্ষা, শ্রম, কয়লা, খনি, ইস্পাত এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অধীনস্থ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন (ARV) এবং অ্যান্টি-রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) মজুত রাখতে হবে, যাতে কুকুরের কামড়ের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। একইসঙ্গে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুকুরের কামড়ের পর কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হবে, সে বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস কমপ্লেক্সগুলিকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাকর্মী ও গ্রাউন্ড স্টাফ মোতায়েন করে পথকুকুরের প্রবেশ রোধ করতে হবে। একইভাবে রেল কর্তৃপক্ষকে স্টেশন এবং সংশ্লিষ্ট অফিস চত্বরে কুকুরের প্রবেশ ও বসবাস বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উচ্ছিষ্ট খাবারের কারণে পথকুকুরের আনাগোনা না বাড়ে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশ বাস্তবায়ন ও রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য প্রতিটি মন্ত্রককে জয়েন্ট সেক্রেটারি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে ‘সিঙ্গল পয়েন্ট অব কন্টাক্ট’ হিসেবে মনোনীত করতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট পথকুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নেই এবার সব মন্ত্রককে সক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার।