১ জুলাই থেকে ১০০ দিনের কাজে বড় বদল! বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান, চালু হচ্ছে নতুন গ্রামীণ প্রকল্প
গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ১ জুলাই থেকে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (মনরেগা বা MGNREGA)-এর পরিবর্তে কার্যকর হচ্ছে নতুন প্রকল্প ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার ও আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা VB-G RAM G। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প শুধু কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যেই নয়, বরং গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীলতাকে একসঙ্গে যুক্ত করে নতুন উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলবে।
নতুন প্রকল্পে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল কর্মদিবসের সংখ্যা বৃদ্ধি। এতদিন যেখানে বছরে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা ছিল, সেখানে এখন যোগ্য প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের জন্য বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২.৫৬ কোটি জব কার্ডধারী উপকৃত হবেন।
প্রকল্পের অর্থায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে অংশ নেবে। ব্যয়ের অনুপাত হবে ৬০:৪০। এর মধ্যে কেন্দ্র দেবে ৮,৫০৮ কোটি টাকা, আর রাজ্যের অংশ হবে ৫,৬৭২ কোটি টাকা। সরকারের মতে, এই অর্থ গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করা হবে।
এই প্রকল্পে চারটি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে— জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, জীবিকা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা। পাশাপাশি কৃষিকাজে শ্রমিকের অভাব যাতে না হয়, সে কারণে বীজ বোনা ও ফসল কাটার মরশুম মিলিয়ে বছরে মোট ৬০ দিন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও জব কার্ডধারী কাজের আবেদন করলে ১৫ দিনের মধ্যে কাজ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ না পেলে তাঁকে বেকারভাতা দেওয়া হবে। একইভাবে, কাজের মজুরি ১৫ দিনের মধ্যে না পেলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পে বেশি সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করা হবে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৬০ শতাংশ শ্রমিকদের মজুরিতে এবং ৪০ শতাংশ উপকরণে ব্যয় করা হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি, জিও-ট্যাগিং, ডিজিটাল এস্টিমেট, অনলাইন মনিটরিং এবং তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সোশ্যাল অডিট, জেলা স্তরে ওম্বাডসম্যান নিয়োগ এবং নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থাও থাকবে।
সরকারের দাবি, এই নতুন প্রকল্প শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, পরিকাঠামোর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং ডিজিটাল প্রশাসনকে আরও কার্যকর করে তোলাই হবে এর মূল লক্ষ্য। ১ জুলাই থেকেই রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্প চালু করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।