Image ref 170185398. Copyright Shutterstock No reproduction without permission. See www.shutterstock.com/license for more information.
তৃণমূল কংগ্রেসের কঠিন সময়ে দল ছেড়ে যাওয়া নেতা-মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিস্বার্থে দল ছেড়ে যাওয়াকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে যাঁদের এখনও শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে, তাঁদের অনুশোচনা করে দলে ফিরে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে দল দীর্ঘদিন ধরে বহু নেতাকে রাজনৈতিক পরিচয়, সম্মান ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে, সেই দল কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতেই কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর দাবি, সম্পত্তি রক্ষা কিংবা আইনি মামলার ভয়ে যারা দল ছেড়েছেন, তারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই ধরনের পদক্ষেপ কোনওভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলত্যাগীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, যারা মনে করছেন অন্য দলে গিয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারবেন, তাঁদের সেই ধারণা ভুল। শেষ পর্যন্ত তাঁদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে না পুরনো দলে ফিরতে পারবেন, না নতুন জায়গায় স্থায়ীভাবে গ্রহণযোগ্য হবেন। তাঁর ভাষায়, তাঁদের অবস্থা হবে “ঘর কা না ঘাট কা”।
তবে এই কড়া বার্তার মাঝেই ফেরার সুযোগের কথাও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যাঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং অনুশোচনা করছেন, তাঁরা সময় থাকতে দলে ফিরে এলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বৈঠকে তিনি আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত শক্তি কোনও নেতা, মন্ত্রী বা জনপ্রতিনিধি নন, বরং নিচুতলার কর্মীরা। তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ভিত্তিতেই দল গড়ে উঠেছে। কর্মীদের বিপদে ফেলে যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন, ভবিষ্যতে জনগণই তাঁদের জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসন্ন ২১ জুলাই শহিদ দিবসকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, যত বাধাই আসুক না কেন, শহিদ দিবস পালন হবেই। “পাঁচজন কর্মী এলেও এই সভা হবে, কারণ এটি আমাদের সংগ্রামের প্রতীক”— এই বার্তাও দেন তিনি।
এছাড়াও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের ভূমিকা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীদের আরও সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।