Philippine
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কালো ছায়া ফিলিপিন্সে। শুক্রবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে (Earthquake) কেঁপে উঠল দক্ষিণ ফিলিপিন্সের (Southern Philippines) মিন্দানাও দ্বীপ। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ) সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৪। ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র ২৯ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎসস্থল হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। কিছুদিন আগেই মিন্দানাও অঞ্চলে জোরালো ভূমিকম্পে ৮০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
সেই ঘটনার ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে এই কম্পন দ্বীপরাষ্ট্রটির বাসিন্দাদের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এদিন ভূমিকম্পের খবর পাওয়ার পরই প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি না করা হলেও, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় এলাকাজুড়ে তল্লাশি ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সরকারি কোনো সূত্র থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানি বা ধ্বংসাত্মক ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করা না হলেও, কম্পনের তীব্রতায় ঘরবাড়ি থেকে মানুষজন বেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আঙিনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আরও এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ভেনেজুয়েলা (Venezuela) থেকে। সেখানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। সূত্রের খবর, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৯-এ। আহত হয়েছেন প্রায় ৩,০০০ জন। উদ্ধারকারী দলগুলোকে স্বাগত জানিয়ে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, “আমরা ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” পৃথিবীজুড়ে উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছালেও মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকৃতির এই জোড়া আঘাত বিশ্বজুড়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে ফিলিপিন্সে একের পর এক কম্পন এবং অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ধ্বংসলীলা—সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন।