রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ‘ডাইনি বাহিনী’, গুপ্তচরবৃত্তি ও হানিট্র্যাপে নতুন কৌশল
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে যুদ্ধের কৌশল। আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য সংগ্রহ এবং গোপন অভিযানের উপর জোর বাড়াচ্ছে দুই পক্ষই। এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে ইউক্রেনের একদল নারী গুপ্তচর, যাদের ‘ভিডমা’ বা ‘ডাইনি বাহিনী’ নামে ডাকা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় ভাষায় ‘ভিডমা’ শব্দের অর্থ ডাইনি। তবে বাস্তবে এই বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ভূমিকা পালন করছেন।
ইউক্রেনীয় সূত্রের দাবি, এই বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে রুশ অধিকৃত এলাকায় কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেন। হাসপাতাল, স্কুল, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সাধারণ কর্মক্ষেত্রে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে তারা স্থানীয় পরিস্থিতি ও সেনা চলাচল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
এই বাহিনীর অন্যতম আলোচিত কৌশল হল ‘হানিট্র্যাপ’। অর্থাৎ, ভুয়া পরিচয়ে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রুশ সেনাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা। অনেক ক্ষেত্রে সেনাদের অবস্থান, চলাচল বা অন্যান্য সামরিক তথ্য শনাক্ত করতেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বাহিনীর সদস্যরা শুধু তথ্য সংগ্রহই করেন না, বরং যুদ্ধ কৌশল, নজরদারি, আত্মরক্ষা এবং গোপন অভিযানের বিশেষ প্রশিক্ষণও পেয়ে থাকেন। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ করেও তাঁরা কার্যকরভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হন।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টের প্রাক্তন সদস্য লেসিয়া ওরোবেটসের মতে, পুরুষ গুপ্তচরদের পক্ষে যেসব জায়গায় পৌঁছানো কঠিন, সেখানে এই নারীরা সহজেই প্রবেশ করতে পারেন। সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই তারা গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাহিনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল রুশ সেনাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহের পরিবেশ তৈরি করা। যাতে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও সম্ভাব্য গুপ্তচরের উপস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদের এই অভিনব ও কৌশলগত ভূমিকা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।