১৫ টাকার সবজি এখন ৬০ টাকা! জ্বালানি, এল নিনো ও দেরিতে বর্ষার জোড়া ধাক্কায় অগ্নিমূল্য বাজার
বর্ষার মরশুম শুরু হতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে দেশের সবজির বাজারে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে একাধিক সবজির দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার। যে সবজি কিছুদিন আগেও ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, এখন সেই সবজির দাম পৌঁছে গিয়েছে ৬০ টাকা প্রতি কেজিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমত, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরো বাজারে সবজি পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে খুচরো দামের ওপর। দ্বিতীয়ত, ‘এল নিনো’-র প্রভাবে এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা খরিফ মরশুমের ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি দেরিতে বর্ষা শুরু হওয়া এবং দীর্ঘদিনের তীব্র দাবদাহের কারণে অনেক এলাকায় সবজির চারা রোপণ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে জোগান কমে যাওয়ায় দাম আরও বেড়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসে ১৭টি প্রধান শাকসবজির মধ্যে অন্তত ৮টির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে টমেটোর। এছাড়া লেবু, বেগুন, গাজর, কাঁচা মরিচ এবং ফ্রেঞ্চ বিনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম গত এক মাসে কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে সবজি-জাতীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হারকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক মাসেও সবজি, ডাল এবং ভোজ্য তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। যদিও সরকারের বাফার স্টক কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, তবে বর্ষা স্বাভাবিক না হলে বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের সংসারের বাজেটে আরও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।