ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় তারকা বিরাট কোহলির জীবনে একটি বিশেষ গান গভীর ছাপ ফেলেছে।মানুষের জীবনে কিছু গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়,বরং আবেগ,স্মৃতি এবং অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।বিরাটের ক্ষেত্রেও তেমনই একটি গান হল পাঞ্জাবি গায়ক কর্ণ অজুলার ‘Winning Speech’।সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান,এই গানটি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় এবং এর কথার সঙ্গে তিনি নিজের জীবনের অনেক মিল খুঁজে পান।বিরাটের মতে,গানটি শুধু একজন শিল্পীর সাফল্যের গল্প নয়,বরং সংগ্রাম,কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার কাহিনি তুলে ধরে।সেই কারণেই গানটি তাঁর হৃদয়ের খুব কাছাকাছি জায়গা দখল করে রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে কোহলি আরও জানান,অল্প বয়সেই বাবাকে হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছিল।সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি এখনও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে।‘Winning Speech’গানের অনুভূতি ও বার্তার সঙ্গে তিনি নিজেকে সহজেই যুক্ত করতে পারেন,কারণ তাঁর জীবনেও ছিল নানা চ্যালেঞ্জ ও লড়াইয়ের অধ্যায়।বিরাট জানান,গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে তিনি বহুবার এই গান শুনেছেন।তাঁর বিশ্বাস,একটি ভালো গান মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে এবং কঠিন মুহূর্তে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাতে পারে।কর্ণ অজুলার প্রশংসা করে তিনি বলেন,হৃদয় থেকে লেখা গানই মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকে এবং জীবনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।
একই অনুষ্ঠানে নিজের অদম্য মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন কোহলি।তিনি বলেন,কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি সহজে হার মানতে শেখেননি।উদাহরণ হিসেবে ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মেলবোর্নের ঐতিহাসিক ম্যাচের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিরাট জানান,অনেকেই যখন ভারতের জয়ের আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন,তখনও তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব।পরিসংখ্যান হয়তো ভারতের জয়ের সম্ভাবনা খুব কম দেখাচ্ছিল,কিন্তু তিনি কখনও সেই হিসাব নিয়ে ভাবেননি।তাঁর মতে,যতক্ষণ পর্যন্ত সামান্য সুযোগও থাকে,ততক্ষণ পর্যন্ত আশা বেঁচে থাকে।আর সেই বিশ্বাস,আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই তাঁকে বারবার অসাধারণ সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।