Announcement
মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্য বাজেটে (West Bengal State Budget)। ২০ শতাংশ DA বৃদ্ধির ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সরকারি কর্মী, আধা সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা বর্তমানে ১৮ শতাংশ ডিএ পান। সোমবার বাজেট প্রস্তাবে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ঘোষণা করা হলো। অর্থাৎ মোট ডিএ-র হার হলো ৩৮ শতাংশ। যাঁরা পেনশন পান, তাঁরাও অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ পাবেন। যা ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকরী হবে। সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রথম বাজেট ছিল। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন। আর সেখানেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় চমক দিল বিজেপি সরকার। গত কয়েক বছর ধরে ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের পাহাড় তৈরি হয়েছিল।
এ দিনের ঘোষণায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশির হাওয়া সরকারি কর্মীদের মধ্যে। ডিএ নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল সরকারি কর্মীদের মনে। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। এ বার তা এক লপ্তে অনেকটাই বাড়ল। এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছিলেন, ‘বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর রয়েছে।’ সেই মতোই এ দিনের ঘোষণার পরে সরকারি অফিসগুলিতে খুশির হাওয়া দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি ১৮ মে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে ঘোষণা করেছিলেন।
বলেছিলেন, ‘রাজ্যের সরকারি কর্মচারী এবং বিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশনের গঠন করা হবে।’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ডিএ নিয়েও রাজ্য সরকার আলোচনা করবে। এক লক্ষ শূন্যপদ নিয়োগ করা হবে। তাতে ৩৩ শতাংশ মহিলা নিয়োগ করা হবে। তার মধ্যে ২০ হাজার পুলিশ বিভাগ, ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে। যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ১০ শতাংশ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
সরকারি পদে নিয়োগে ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ইতিমধ্যে ৫ বছর ছাড় দেওয়া হবে। এই সুবিধা পরবর্তী ২ বছরের জন্য বহাল থাকবে।চলতি বছর অন্তর্বর্তী বাজেটে তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৪ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল। গত ১ এপ্রিল থেকেই সেই ৪ শতাংশ হারে ডিএ পাওয়ার কথা ছিল ঘোষণা মতো। তবে নির্দিষ্ট সময় পার করে গেলেও তা নিয়ে নির্দেশিকা বের হয়নি। ফলে সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশ, এই নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলেন। অবশেষে এই ঘোষণা বড় স্বস্তি রাজ্য সরকারের কর্মীদের জন্য।