CPM eyes Muslim votes
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মুসলিম ভোট Muslim votes ব্যাংক পুনরুদ্ধার করা বর্তমানে সিপিআইএম (CPIM) বা বামফ্রন্টের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কৌশল। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বামেদের এই ঐতিহ্যবাহী ভোট ব্যাংকের সিংহভাগ তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দিকে চলে যায়। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হওয়ার পর থেকে সিপিআইএম নতুন করে এই ভোট ব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। ‘শত্রুপক্ষ’ তৃণমূলের ঘর ভেঙে খান-খান! এহেন পরিস্থিতিতে পার্টি কী সেই ফায়দা তুলে নতুন করে গড়ে উঠছে? এহেন প্রশ্নের জবাব খুঁজতেই বিশেষ অধিবেশন ডাকল সিপিএম। আগামী ৩০ এবং ৩১ আগস্ট কল্যাণীতে হবে বিশেষ এই অধিবেশন।
সেখানেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বসবে পার্টির রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন। সেখানে যোগ দেবেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-সহ পলিটব্যুরোর বেশ কয়েকজন সদস্য। বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছর ধরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা হলেও ভোট ব্যাঙ্কে তার প্রভাব পড়েনি। পাঁচ শতাংশেই আটকে রয়েছে পার্টির জনসমর্থন। বিজেপি বা তৃণমূলের দিকে চলে যাওয়া গরিব মানুষের ভোট ফেরানো যায়নি। তবে আশা জাগিয়েছে দু’টি ঘটনা।
প্রথমটি, এবারে নির্বাচনে খাতা খুলতে পেরেছে। বিধানসভায় গিয়েছেন একজন বিধায়ক। দ্বিতীয়ত, ফলতা নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসা। যা কিছুটা হলেও নেতা-কর্মীদের মধ্যে অক্সিজেন জুগিয়েছে। পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, রাজ্য রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন না হলে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বিশেষ করে মুসলিম ভোটও ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে ঘরে বসে থাকলে হবে না। কিন্তু এখনই সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামলে হিতে ফল বিপরীত হতে পারে। নয়া সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিশেষ অধিবেশনে আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ম্যানেজাররা। মুসলিম ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে সিপিআইএম মোহাম্মদ সেলিম,মুস্তাফিজুর রহমান রানা (মোস্তাফিজুর রহমান) দের মতো মুসলিম নেতাদের সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে। বামেরা মূলত সাচার কমিটির রিপোর্টের উল্লেখ করে মুসলিমদের শিক্ষা, সরকারি চাকরি ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার কথা তুলে ধরছে।
সিপিআইএম লাগাতার প্রচার করছে যে, তৃণমূল আসলে হিন্দু বিজেপিকে রাজ্যে জায়গা করে দিচ্ছে। তারা মুসলিমদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, বিজেপিকে রুখতে একমাত্র সিপিআই বিকল্পই ভরসাযোগ্য। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং কংগ্রেসের সাথে বিভিন্ন সময়ে আসন সমঝোতা করে সিপিআইএম মুসলিম প্রধান আসনগুলোতে নিজেদের জমি শক্ত করার চেষ্টা করেছে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ও সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোর ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বাংলার মুসলিম ভোটব্যাংকে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
মুসলিমদের একটি বড় অংশ কৌশলগতভাবে ভোট (Strategic Voting) দেয়। তারা মনে করতো, বিজেপিকে সরাসরি হারাতে গেলে বামেদের চেয়ে তৃণমূলকে ভোট দেওয়াই বেশি কার্যকর। আবার মুসলিম রাজনৈতিক দলগুলির উত্থান, যেমন আইএসএফ (ISF), এআইএমআইএম (AIMIM) বা হুমায়ুন কবীরের মতো ছোট ছোট মুসলিম দলগুলি সরাসরি মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের দাবি করায় তৃণমূল,-কংগ্রেস বামেদের পক্ষে সেই ভোট সম্পূর্ণ নিজেদের দিকে টানা কঠিন হচ্ছে। সিপিআইএমের নজরে মুসলিম ভোট থাকলেও, এই ভোট ব্যাংক পুরোপুরি ফিরে পাওয়া তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী লড়াই। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি প্রমাণ করে যে, বাংলার সংখ্যালঘু ভোটাররা এখন আর কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের “বাঁধা ভোট ব্যাংক” হিসেবে থাকতে রাজি নন, যা আগামী দিনে বামেদের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে।