মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের সামনে এখন কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই।সেমিফাইনালে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখতে হলে বৃহস্পতিবার ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই হরমনপ্রীত কৌরদের সামনে।তবে শুধু জয় নয়,নেট রানরেটের কঠিন সমীকরণ মাথায় রেখে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জেতাও এখন ভারতের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।গ্রুপ পর্বের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি ওভার এবং প্রতিটি ফিল্ডিং মিস টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।তাই এই ম্যাচে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করে খেলতে হবে ভারতকে,যাতে প্রতিপক্ষকে ম্যাচের কোনও পর্যায়েই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ না দেওয়া হয়।
ভারতের পারফরম্যান্সে এখনও পর্যন্ত উজ্জ্বলতা এবং দুর্বলতা—দুই-ই স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।ওপেনিং জুটিতে স্মৃতি মন্ধনা ও শেফালি বর্মা ধারাবাহিকভাবে দলকে ভালো শুরু এনে দিলেও সেই ভিতকে বড় স্কোরে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে মিডল অর্ডার।স্মৃতি তিন ম্যাচে ১৫৯ রান করে দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন, আর শেফালিও ৯২ রান করে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।দু’জনেরই আক্রমণাত্মক স্ট্রাইক রেট ভারতকে দ্রুত রান তোলার সুযোগ দিলেও ওপেনাররা আউট হওয়ার পর ইনিংসের গতি একেবারেই কমে যাচ্ছে।ফলে শক্ত ভিত তৈরি হলেও সেটিকে বড় স্কোরে নিয়ে যাওয়ার মতো ধারাবাহিকতা দলের ব্যাটিংয়ে দেখা যাচ্ছে না,যা বড় ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর,জেমাইমা রড্রিগেজ ও যস্তিকা ভাটিয়ার ব্যাটিং ধীরগতির কারণে দলের রানের প্রবাহ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।টি-২০ ক্রিকেটে যেখানে পাওয়ার-হিটিং এবং দ্রুত রান তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই অভিজ্ঞ ব্যাটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আগ্রাসন দেখা যাচ্ছে না।বিশেষ করে হরমনপ্রীত ও জেমাইমার ব্যাট থেকে এখনও পর্যন্ত একটিও ছক্কা না আসা দলের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।এর ফলে শেষের ওভারে রিচা ঘোষ ও দীপ্তি শর্মার ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব এসে পড়ছে,যা অনেক সময় দলকে চাপের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।বাংলাদেশের শক্তিশালী স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে হলে ভারতের মিডল অর্ডারকে শুধু রানই নয়,স্ট্রাইক রেটের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।একই সঙ্গে ব্যাটিং অর্ডারে প্রয়োজন হলে কৌশলগত পরিবর্তন এবং আরও আগ্রাসী মানসিকতা দেখানোও ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।