মৃত্যুর মিছিলের পর প্রশ্নের মুখে ফিরহাদ হাকিম
কলকাতার তারাতলায় ভয়াবহ শেড ধসের ঘটনায় একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর পর শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেক শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায়, যার বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী ও কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ঘটনার পর থেকেই নির্মাণকাজের অনুমোদন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজ বা শেড তৈরির বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। তিনি বলেন, “আমি জানতাম না কে বিল্ডিং করেছে, কে ঠিকাদার বা কারা কাজ করছিল। কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে কে শেড বানাচ্ছে তা জানা সম্ভব নয়। এই ধরনের প্ল্যানের অনুমতি পুরসভা থেকে দেওয়া হয় এবং ইঞ্জিনিয়াররা এসে সবকিছু পরীক্ষা করেন। তবে এই বিষয়টি নিয়ে আমার কোনও ধারণা নেই। শুধু বলব, উদ্ধারকাজ ভালো হচ্ছে এবং সরকার ভালো কাজ করছে।”
তবে ফিরহাদের এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, নির্মাণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা অনুমোদনের দায়িত্ব কলকাতা পুরসভার অধীনেই থাকে। ফলে কীভাবে এত বড় একটি নির্মাণকাজ চলছিল অথচ স্থানীয় প্রশাসন বা পুরসভার শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারাতলায় একটি গোডাউনের নির্মাণকাজ চলছিল। বুধবার সকালেও অন্যান্য দিনের মতো শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার প্রায় আধ ঘণ্টা আগে একটি লোহার বিম নড়ে যায়। এরপর শেডের কয়েকটি অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকজন কর্মী শেডের ভিতরে ঢুকে সেটিকে আবার দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই সময় আচমকাই বিশাল টিনের শেডটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।
মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নির্মাণক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, অনুমোদনের সমস্ত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং প্রশাসনের নজরদারিতে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।