বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নকআউটের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে।প্রতিটি ম্যাচের ফল বদলে দিচ্ছে শেষ ৩২-এর হিসাব।গ্রুপ ‘জি’-র শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। অন্যদিকে মিশর ও ইরানের লড়াই ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনায় ভরপুর।ম্যাচে ছিল গোল,পেনাল্টি, একাধিক আক্রমণ,VAR-এর হস্তক্ষেপ এবং শেষ মুহূর্তের হৃদয়ভাঙা নাটক।দুই দেশের আপত্তি সত্ত্বেও স্টেডিয়ামে উড়তে দেখা যায় সমকামী সম্প্রদায়ের প্রতীক ‘প্রাইড’ পতাকা,যা নিয়েও তৈরি হয় বিতর্ক।তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ইরানের বাতিল হওয়া গোল।জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিয়েই নকআউট নিশ্চিত করে মিশর।
ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে মাহমুদ সাবেবের গোলে এগিয়ে যায় মিশর।শুরুতেই গোল হজম করলেও লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি ইরান।১১ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয় তাদের সামনে।কিন্তু দলের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ফুটবলার মেহেদি তারেমির শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক ঔফা সোবের।সেই ব্যর্থতার ধাক্কা দ্রুত সামলে নেয় ইরান। মাত্র তিন মিনিট পর কঠিন কোণ থেকে দুর্দান্ত এক শটে সমতা ফেরান রামিন রেজাইন।এরপর দুই দলই জয়ের লক্ষ্যে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে।মাঝমাঠের দখল,দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ম্যাচের উত্তেজনা শেষ বাঁশি পর্যন্ত বজায় ছিল।
আসল নাটক জমে ওঠে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে।টানা আক্রমণের পর পেনাল্টি বক্সে বল পেয়ে খলিলজাদেহ জালে বল জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ইরানের ফুটবলার,কোচিং স্টাফ ও সমর্থকেরা।কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি।VAR পর্যালোচনার পর রেফারি অফসাইডের সিদ্ধান্ত জানালে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইরান শিবির।শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।এই ফলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ উঠে যায় মিশর,যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।অন্যদিকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ইরানের ভাগ্য এখনও ঝুলে রয়েছে অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর।একই সঙ্গে এই ড্রয়ের সুবাদে গ্রুপ ‘আই’থেকে সেনেগালও শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে।বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষদিকে এসে তাই নকআউটের লড়াই আরও জমে উঠেছে।