ফ্রান্স সফরে গিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্যারিসের সাল প্লেয়েল প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত অনাবাসী ভারতীয়দের এক বৃহৎ সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে ভারত শুধুমাত্র একটি উদীয়মান অর্থনীতি নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন শুধু বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং স্থায়ী অংশীদারিত্বই ভবিষ্যতের কূটনীতির মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক আগামী দিনে বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্যারিসে আয়োজিত ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রদর্শনী ভিভাটেক ২০২৬-এ ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মোদী। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় ৫০ শতাংশই ভারতে সম্পন্ন হয়। ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতের এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এখন আন্তর্জাতিক স্তরেও জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিমানবন্দরেও ইউপিআই পরিষেবা চালু হয়েছে।
কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের কাছে এআই-এর অর্থ শুধুমাত্র ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নয়, বরং ‘অল ইনক্লুসিভ’। অর্থাৎ প্রযুক্তির সুবিধা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ভারতের লক্ষ্য। তিনি প্রযুক্তির গণতন্ত্রীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন।
এছাড়াও ভারত-ইউরোপ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আগামী বছরে ভারত-ফ্রান্সের যৌথ উপগ্রহ ‘ট্রিশনা’ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। জল ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, একসময় সাধারণ চা বিক্রেতা থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যাত্রা ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তিরই প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে। দেশের যুবসমাজ, নারী ও কৃষকদের শক্তিকেই ভারতের আগামী দিনের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।