মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কঠোর নিরাপত্তা বিধির কারণে মাঝপথেই অনুশীলন বন্ধ করে হোটেলে ফিরে যেতে বাধ্য হল পর্তুগাল ফুটবল দল।অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও তাঁর সতীর্থরা কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতিতে মাঠে নেমেছিলেন।তার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ দলের আত্মবিশ্বাসের কথাও জানিয়েছিলেন। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫-০ গোলের বড় জয় পাওয়ার পর পর্তুগাল শিবিরে এখন দারুণ ইতিবাচক পরিবেশ।যে রোনাল্ডোকে কয়েক দিন আগেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল,তিনিই এখন প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু।তাঁর নেতৃত্ব,পারফরম্যান্স এবং দলের জয়ে সন্তুষ্ট সমর্থক ও সংবাদমাধ্যম।এমনকি আগে রোনাল্ডোর সমর্থনে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে হয়েছিল তাঁর বোনকেও।তবে মাঠের বাইরের এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি হঠাৎই বদলে দিল অনুশীলনের পরিকল্পনা।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় পাম বিচের কাছে অনুশীলন শুরু করেন রবার্তো মার্টিনেজের দল।সুখবর ছিল,দীর্ঘদিন পর প্রায় পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কোচ।প্রথম ম্যাচে রুবেন ডিয়াস এবং দ্বিতীয় ম্যাচে টমাস আরাউহো খেলতে না পারলেও এখন দলে নতুন কোনও চোটের সমস্যা নেই।সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চলছিল।কিন্তু অনুশীলন শুরুর প্রায় আধ ঘণ্টা পরই দলের ম্যানেজমেন্ট আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পায়।এরপর আর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে অনুশীলন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কোচ মার্টিনেজও নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে হোটেলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী,যদি বজ্রপাত-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা ১৩ কিলোমিটারের মধ্যেও শনাক্ত হয়,তাহলে খোলা মাঠে কোনও ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যায় না।এই নিয়ম সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই কার্যকর করা হয়েছে।মায়ামিতে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন খুবই সাধারণ ঘটনা,আর সম্প্রতি বজ্রপাতে এক শিশুর মৃত্যুর পর প্রশাসন আরও বেশি সতর্ক।পরিসংখ্যান বলছে,প্রতি বছরই ফ্লোরিডায় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।তাই কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে অনুশীলন বন্ধ করাই ছিল সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত।ম্যাচের প্রস্তুতিতে সাময়িক বিরতি এলেও পর্তুগাল শিবিরের কাছে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই ছিল সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।