পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্য বাজেটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের ‘ইনস্টিটিউট অফ এক্সেলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ১০০০ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকার ২০০ কোটি টাকা প্রদান করবে বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকট, পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক সুবিধার অভাবে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন এই বরাদ্দের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। বিশেষ করে অত্যাধুনিক অ্যানালিটিক্যাল ল্যাবরেটরি নির্মাণ, গবেষণার জন্য উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন, নতুন একাডেমিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। পাশাপাশি শিক্ষক সংগঠন জুটা-র সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা গবেষণা ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
শুধু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, শিক্ষা ও পরিবেশ খাতে এবারের বাজেটে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করতে ঝাড়গ্রামে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ক্রীড়াবিজ্ঞানের প্রসার এবং ক্রীড়া গবেষণাকে উৎসাহ দিতে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘স্টেট অ্যাকশন প্ল্যান অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’-এর জন্যও ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা, ক্রীড়া ও পরিবেশ সংরক্ষণে এই বরাদ্দগুলি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।