Mahishadal
শিশুকন্যাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হতেই প্রতিবাদীদের উপর চড়াও হয় ধৃতের শাগরেদরা। এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে ২ পক্ষ। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১২ জন। সব মিলিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিষাদলের কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা অভিযুক্ত শেখ মফিজুল। তাঁর বয়স ৪৫ বছর। অভিযোগ, মঙ্গলবার শিশুকে ডেকে নিয়ে যায় সে। অভিযোগ, দোকানের পাশে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। স্থানীয় যুবকদের তৎপরতায় রাতেই অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনার রেশ এখানেই থামেনি। স্থানীয়রা অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়।
এদিকে অভিযুক্তের সহযোগীরা প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের উপর চড়াও হয়। ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ফলে জখম হন ১০ থেকে ১২জন স্থানীয় বাসিন্দা। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি না হয়, সেদিকে নজর রয়েছে পুলিশের। জানা যাচ্ছে, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের অজান্তে বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেত সে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও অভিযুক্ত তা গুরুত্ব দেয়নি বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ দোকান বন্ধ করার সময় হঠাৎই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, সেখ মফিজুল সাইকেলে করে শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছে। প্রায় আধ ঘণ্টা পর অভিযুক্ত শিশুটিকে ফিরিয়ে আনে বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, বাড়ি ফেরার পর বাথরুমে যাওয়ার সময় শিশুটি গোপনাঙ্গে ব্যথার কথা জানায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মহিষাদলের বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরিবারের পক্ষ থেকে মহিষাদল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পকসো আইনের ধারায় মামলা রুজু করে। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পুলিশ তার বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সেখ মফিজুল-সহ কয়েকজন পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেয় এবং তাদের উপর চড়াও হয়। ধস্তাধস্তি ও হামলায় দুই পুলিশকর্মী ও এক সিভিক ভলান্টিয়ার আহত হন। গুরুতর আহত এক পুলিশ আধিকারিককে তড়িঘড়ি তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত সেখ মফিজুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে নাবালিকার উপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা—দুই দিক নিয়েই তদন্ত শুরু করেছে মহিষাদল থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।দোষীর কঠোর শাস্তির দাবিতে রাতে হলদিয়া মেচাদা রাজ্য সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় হিন্দুসংগঠন। আজ সকাল থেকে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা, অভিযুক্তর দোকানে আগুন দেয় তারা।