৮ বছর পর কাকদ্বীপের দম্পতি হত্যা মামলায় বড় পদক্ষেপ, গ্রেপ্তার ১০ অভিযুক্ত
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় সিপিএম সমর্থক দম্পতি দেবু দাস ও ঊষা দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন করে তৎপর হল পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তদন্তে গতি না থাকার অভিযোগের মধ্যেই রাতভর অভিযান চালিয়ে ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, কাকদ্বীপের বুধাখালি গ্রামের বাসিন্দা দেবু দাস ও ঊষা দাস পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক হিংসার শিকার হন। অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুনেই দম্পতির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় তাঁদের একমাত্র ছেলে দীপঙ্কর দাস বাড়িতে ছিলেন না। পরে বাড়ি ফিরে তিনি বাবা-মায়ের দগ্ধ মৃতদেহ দেখতে পান। সেই মর্মান্তিক দৃশ্য আজও তাঁর মনে দাগ কেটে রয়েছে বলে জানা যায়।
ঘটনার পর কাকদ্বীপ থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। তবে দীপঙ্কর দাসের অভিযোগ ছিল, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁদের কারও নাম এফআইআরে ছিল না। প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মামলার তদন্ত কার্যত থমকে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন দীপঙ্কর দাস। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর বাবা-মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে আবেদন জানান। সূত্রের খবর, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই সাক্ষাতের পরই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বাড়ে।
মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে কাকদ্বীপ থানার পুলিশ ১০ জন সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে আটক করে। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। একইসঙ্গে সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুরও দীপঙ্কর দাসের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘ আট বছর পর এই গ্রেপ্তারিকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহত দম্পতির পরিবারের আশা, এবার প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবে এবং বহুদিনের বিচারপ্রক্রিয়া সঠিক পথে এগোবে।