“আমাকে বাঁচাও, বেরোনোর কোনও রাস্তা নেই”— লখনউয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যু
উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলীগঞ্জ এলাকায় একটি বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহুতলের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন ও ডিজাইন সেন্টারে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই গোটা ভবন ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত অনেক কর্মী বেরিয়ে আসতে পারেননি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী গেম ডিজাইনার সুখমানি সিং। আগুনের মধ্যে আটকে পড়ে তিনি শেষবার বাবাকে ফোন করে আকুল কণ্ঠে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, বেরোনোর কোনও রাস্তা নেই।” ছেলের সেই অসহায় আর্তি শুনেও কিছু করতে না পারার যন্ত্রণা এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে পরিবারকে।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী জয়নীল চক্রবর্তীও। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফোনে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে গিয়েছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, প্রশাসন যদি আরও দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করত এবং সময়মতো ভবনের দেওয়াল ভাঙার সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে হয়তো আরও কয়েকটি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন ও ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে কয়েকজন কর্মী বহুতলের নিকাশি পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেও অনেকেই ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়েন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আদিত্য শ্রীবাস্তব, সুরজ সিং, শাহজান, মহম্মদ আব্দুল, সংযম, সাগর, নীলেশ, অনামিকা, মহম্মদ আম্মার, ভবিষ্যৎ, জ্যোতি, সুমাল্য ও আনুচা-সহ আরও অনেকে।
কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (KGMU) ভাইস চ্যান্সেলর সোনিয়া নিত্যানন্দ জানিয়েছেন, মোট ২৪ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অধিকাংশের শরীরে পোড়ার চিহ্ন না থাকলেও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বহুতলগুলির অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং নিরাপত্তা বিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।