রামমন্দিরের প্রণামী চুরি মামলায় চাঞ্চল্য! ২ কোটি টাকা উদ্ধার, নজরে ২৫ মূল সন্দেহভাজন
অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর তদন্তে উঠে এসেছে, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর অর্থের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করে হরিদ্বার, ঋষিকেশ এবং মানালির মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে হোটেল ব্যবসা গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গত দু’বছরে বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি ও ব্যবসা তৈরি হয়েছে। এই অর্থের উৎস এবং লেনদেনের নথিপত্র এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় প্রায় ১৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের অযোধ্যার বাইরে যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই ১৫০ জনের মধ্য থেকে ২৫ জনকে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে আরও গভীর তদন্ত চালানো হবে।
শুধু প্রণামী চুরি নয়, তদন্তে আরও উঠে এসেছে তথাকথিত ‘৪০ শতাংশ কমিশন সিন্ডিকেট’-এর অভিযোগ। দাবি করা হচ্ছে, রামমন্দির নির্মাণের সময় ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের নামে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, নির্ধারিত বাজারদামের প্রায় ১৭ গুণ বেশি অর্থে জমি কেনা হয়েছে, যার ফলে ট্রাস্টের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে।
এই মামলায় প্রণামীর নগদ অর্থ গোনা ও সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের জেরা করে ২ কোটিরও বেশি নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, রামনবমী, দীপাবলি ও হোলির মতো উৎসবে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হলেও সরকারি হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত প্রণামীর পরিমাণের উল্লেখযোগ্য অমিল পাওয়া গেছে। এমনকি সোনা ও রুপোর গয়না আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তদন্তে আর্থিক তছরূপের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।