রক্তাক্ত দেহ দেখেও নির্বিকার! কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে উদ্ধারকারীর বিস্ফোরক দাবি
পুণের লোহাগড় দুর্গে ২৫ বছর বয়সি ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন মৃতদেহ উদ্ধারকারী দলের সদস্য সুনীল গায়কওয়াড়। তাঁর দাবি, কেতন আগরওয়ালের দেহ অত্যন্ত বীভৎস অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের আচরণও তাঁর কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুনীল গায়কওয়াড় জানান, ১৮ জুন সকাল প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ পুলিশ উদ্ধারকারী দলকে খবর দেয়। এরপর তাঁরা লোহাগড় দুর্গে পৌঁছে খাদে পড়ে থাকা এক যুবকের দেহ দেখতে পান। তাঁর মাথায় ছিল মারাত্মক আঘাত। খুলির একটি অংশ সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও হাত-পা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিল একাধিক গুরুতর ক্ষতচিহ্ন। ঘটনাস্থলেই কেতনের মৃত্যু হয়েছিল বলে তাঁদের ধারণা।
সুনীল আরও জানান, দুর্গম জঙ্গল এবং খাড়া পাহাড়ি ঢাল পেরিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করা মোটেও সহজ ছিল না। প্রায় দু’ঘণ্টার দীর্ঘ অভিযানের পর দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে দুপুর দেড়টা নাগাদ মৃতদেহ অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে দেওয়া হয়। খাড়া ঢাল বেয়ে দেহ নামানোর সময় উদ্ধারকারী দলকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে উদ্ধারকারী দলের সদস্যের সবচেয়ে বড় দাবি ঘিরে রয়েছে কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েলকে। সুনীলের কথায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও অন্যদের মতো কান্নাকাটি বা ভেঙে পড়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি সিয়ার মধ্যে। চারপাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষ যখন শোকে চিৎকার করে কাঁদছিলেন, তখন সিয়া ছিলেন সম্পূর্ণ শান্ত এবং স্বাভাবিক। তাঁর এই আচরণ উদ্ধারকারী দলের নজর কেড়েছিল বলে জানান সুনীল।
উল্লেখ্য, প্রথমে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতিতে পুলিশের সন্দেহ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। এই ঘটনায় কেতনের ২০ বছর বয়সি বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক ২২ বছর বয়সি চেতন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত এখনও চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।