পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় ৩৪ বছরের এক আবেগঘন প্রতিজ্ঞা পূরণের সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক অপেক্ষার পর ধর্মীয় ও শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে প্রয়াত বিজেপি কর্মী হরিসাধন ডোগরির শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন তাঁর দুই ছেলে। শুক্রবার এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
পরিবারের দাবি, ১৯৯২ সালে রাজনৈতিক হিংসার বলি হন হরিসাধন ডোগরি। অভিযোগ, বিজেপি করার কারণেই সিপিএমের দুষ্কৃতীরা তাঁকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে। ঘটনার পর গড়বেতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁদের দাবি, বিচার না পাওয়ার হতাশা থেকেই নিহতের দুই ছেলে একটি কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তাঁরা ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত এবং বাবার হত্যার ন্যায়বিচারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বাবার শ্রাদ্ধশান্তির আচার সম্পন্ন করবেন না।
সময়ের সঙ্গে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকারের অবসানের পর তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও হরিসাধন ডোগরির হত্যাকাণ্ডের কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি পরিবারের। সেই কারণেই এত বছর ধরেও তাঁরা নিজেদের প্রতিজ্ঞা ভাঙেননি। পরিবারের বক্তব্য, বাবার প্রতি সম্মান এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে রেখেই তাঁরা এই সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
অবশেষে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর শুক্রবার দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করেন দুই ছেলে। ধর্মীয় বিধি মেনে সমস্ত আচার পালনের পাশাপাশি বাবার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনাও করা হয়।
নিহতের বড় ছেলে তন্ময় ডোগরি বলেন, তাঁরা বহু বছর আগে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে বাবার খুনিদের শাস্তি এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ না আসা পর্যন্ত শ্রাদ্ধ করবেন না। আজ সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করতে পেরে তাঁরা মানসিকভাবে স্বস্তি পেয়েছেন। বাবার আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। পরিবারের এই ৩৪ বছরের প্রতিজ্ঞা পূরণ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।