মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন বিধায়কের কার্যালয়। ভবানীপুর বিধানসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের রামমোহন দত্ত রোডে অবস্থিত এই কার্যালয়ের উদ্বোধন ঘিরে উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, ভবানীপুরের মানুষের সুবিধার্থে একটি বিধায়ক কার্যালয় চালু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতিই এদিন পূরণ করেন তিনি।
উদ্বোধনের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই কার্যালয় শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক অফিস নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য একটি ‘বিধায়কের সেবা কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করবে। এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ এবং প্রয়োজন নিয়ে এখানে যোগাযোগ করতে পারবেন। তিনি জানান, একজন বিধায়কের কাছে সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা থাকে, সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। এখান থেকে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক ও জরুরি পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রাক্তন বিধায়কের নাম উল্লেখ না করেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গত ১৫ বছরে ভবানীপুরের মানুষ প্রকৃত অর্থে বিধায়কের কাজ দেখেননি। তাঁর দাবি, এতদিন মানুষের কাছে কোনও নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না, যেখানে তাঁরা নিজেদের সমস্যা নিয়ে যেতে পারতেন। এখন সেই অভাব দূর হয়েছে। গণতন্ত্রে জনগণের রায়ই শেষ কথা, আর সেই রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়েই মানুষের জন্য এই কার্যালয় তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনও প্রয়োজনে যদি পুলিশ সহযোগিতা না করে বা সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যা হয়, তাহলে সরাসরি এই কার্যালয়ের মাধ্যমে তাঁর কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। এমনকি দলের কোনও কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তিনি বলেন, মানুষের পাশে থাকা এবং মানবসেবাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, প্রশাসনিক ও পরিষেবা ব্যবস্থারও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই বিধায়ক কার্যালয় সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে। পাশাপাশি তিনি নিজেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা এই কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে এলাকার মানুষের অভিযোগ, সমস্যা ও পরামর্শ শুনবেন। তাঁর কথায়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখাই তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।