Nadia: Family members mourn after a nine-year-old girl was killed in a bomb explosion in Kaliganj, in West Bengal's Nadia district, Monday, June 23, 2025. (PTI Photo)(PTI06_23_2025_000221A)
তমান্না খাতুন খুনকাণ্ডে তদন্তে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ জন। ধৃতদের নাম জিয়ারুল শেখ ও সাবির শেখ। মঙ্গলবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নদিয়ার পলাশীপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ।
মঙ্গলবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নিহত তমান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। সেখানে তিনি মেয়ের খুনের ঘটনায় এখনও অধরা থাকা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দেন যে, এই ঘটনায় জড়িত কোনও প্রকৃত দোষীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। সেই আশ্বাসের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের এই পদক্ষেপ সামনে আসায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার অতুল ভি-র কাছেও বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ডেপুটেশন দিয়েছিল বাম সংগঠন। পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে সেই সময়সীমার অনেক আগেই আরও দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন কালীগঞ্জের মোলান্দি গ্রামে সকেট বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় তমান্না খাতুনের। অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়প্রাপ্ত দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতেই প্রাণ হারায় সে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।
তদন্তের শুরুতেই পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু বাকি অভিযুক্তদের ধরার দাবিতে বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হন নিহতের মা। অবশেষে আরও দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বুধবার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হবে। পাশাপাশি মামলার বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।