চশমায় গোপন ক্যামেরা! স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় টলিপাড়া ও রাজনৈতিক মহল
জেলবন্দি প্রভাবশালী নেতা স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গত ৪ জুন গ্রেপ্তার হওয়া স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার আদালতে উঠেছে আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জেমস বন্ডের কায়দায় নিজের চশমায় গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করতেন, যা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোরদার তদন্ত।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রিজেন্ট পার্ক থানায় দায়ের হওয়া একটি তোলাবাজির মামলার শুনানিতে এই তথ্য সামনে আসে। মামলার এক অভিযোগকারিণী আদালতে দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্ষমতার জোরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি, বিশেষ করে টালিগঞ্জের শিল্পী, কলাকুশলী ও বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের উপর প্রভাব বিস্তার করতেন স্বরূপ বিশ্বাস। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, তাঁর চশমায় থাকা গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির অজান্তে তথ্য ও ভিডিও সংগ্রহ করা হতো। সেই তথ্য পরবর্তীতে কোনোভাবে চাপ সৃষ্টি বা ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
এর মধ্যেই গত ১৪ জুন নিউ আলিপুর থানায় এক মহিলার দায়ের করা অভিযোগ আরও চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিউ আলিপুর এলাকায় একটি স্ট্রিট ফুড কার্ট চালু করার অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁর কাছে ৮০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি একটি ক্লাবঘরে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার জন্য কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ওই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
তদন্তকারীরা এখন স্বরূপ বিশ্বাসের ব্যবহৃত চশমা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সরঞ্জাম খতিয়ে দেখছেন। গোপন ক্যামেরা ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি, এর মাধ্যমে সংগৃহীত কোনো তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে কি না এবং অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
একসময় টলিপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগগুলি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গোপন ক্যামেরা থেকে তোলাবাজির অভিযোগ—সব মিলিয়ে এই মামলাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে সকলের।