কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের জল্পনা ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, আগামী সপ্তাহেই এই সম্ভাব্য ক্যাবিনেট রদবদলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে অর্থ মন্ত্রকে। সূত্রের দাবি, বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তাঁকে উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার শূন্য আসনে প্রার্থী করার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে। তাঁর পরিবর্তে ভারতের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার শক্তিকান্ত দাসের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে।
শক্তিকান্ত দাস দীর্ঘদিন দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর হিসেবে তাঁর কাজ, আর্থিক সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা তাঁকে এই পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা আগামী দিনে সরকারের আর্থিক নীতিকে আরও গতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে।
এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রকেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের খবর, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও তাঁর পরিবর্তে কে দায়িত্ব নিতে পারেন, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদে এবং নিতিন গড়কড়ি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রীর পদেই বহাল থাকতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই সম্ভাব্য রদবদল বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের অর্থনৈতিক নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিনিয়োগের পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারিভাবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক জল্পনা এবং সূত্রের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।