ভারত থেকেই ৮১ কোটি টাকার আয় ট্রাম্পের! রিয়েল এস্টেট, ক্রিপ্টো ও গলফে বিপুল সম্পদ, প্রকাশ্যে বার্ষিক আয়ের খতিয়ান
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও ব্যবসায়িক সাফল্যকে সবসময়ই সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা তাঁর ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়ের খতিয়ান থেকে জানা গেছে, শুধু ভারত থেকেই তিনি প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮১ কোটি টাকা আয় করেছেন। এই বিপুল আয় এসেছে মূলত ভারতের রিয়েল এস্টেট খাতে বিভিন্ন লাইসেন্সিং চুক্তি ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে।
তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি ও গুরুগ্রামের ট্রাম্প টাওয়ার প্রকল্পের লাইসেন্সিং ফি থেকে ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে। এছাড়া ভারতের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে তাঁর ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা এখনও বজায় রয়েছে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে মুম্বাইয়ের একটি ট্রাম্প টাওয়ার প্রকল্প থেকেই তিনি প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলেন।
ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বিস্তৃত। ২০২৫ সালে কাতার, ভারত, ভিয়েতনাম, ওমান এবং দুবাই—এই পাঁচটি দেশ মিলিয়ে তাঁর মোট আয় হয়েছে প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে দুবাই থেকে, যেখানে তাঁর মুনাফা প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে পুনের ট্রাম্প টাওয়ার প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে প্রায় ২৮৯ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে বলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের আয়ের উৎস শুধুমাত্র রিয়েল এস্টেট নয়। ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক ব্যবসা থেকেও তিনি প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন, যা তাঁর সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসগুলোর একটি। এছাড়া গলফ ক্লাব পরিচালনা, বিভিন্ন বাণিজ্যিক লাইসেন্সিং চুক্তি এবং ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির মতো খাত থেকেও তাঁর আয় হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
এই বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পরিচালনায় ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্প, ব্র্যান্ড লাইসেন্সিং এবং বিনিয়োগ কার্যক্রমে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পদের হিসাব বাদ দিলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তিনি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।