তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংকট যেন ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। একদিকে রাজ্যে বিধায়ক দলে ভাঙন, অন্যদিকে দিল্লিতে সংসদীয় দলের বড় অংশের বিদ্রোহ—এই জোড়া সংকটের মাঝেই এবার দলীয় কার্যালয় নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।দিল্লিতে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যক্রম চলত সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সরকারি আবাসন থেকে। পুরনো কার্যালয় ছাড়ার পর তাঁর সংসদীয় আবাসনই কার্যত দলের অস্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পার্থ ভৌমিক বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় তিনি নিজের জন্য বরাদ্দ সেই আবাসন ফেরত চাইতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে দিল্লিতে তৃণমূলের বর্তমান কার্যালয়ও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে দলের সংসদীয় শিবিরেও বড় ধরনের ভাঙনের খবর সামনে এসেছে। বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথক ব্লক গঠনের লক্ষ্যে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে নতুন কার্যালয় গঠনের পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।অন্যদিকে কলকাতাতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে বিরোধ চরমে উঠেছে। বাড়ির মালিক মন্টু সাহার অভিযোগ, ২০২২ সালে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়িটি দলকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। পরে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হলেও তা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বাড়িটি খালি করা হয়নি।
তাঁর দাবি, বহুবার বাড়ি ফেরতের অনুরোধ জানানো হলেও দলীয় কার্যালয় সরানো হয়নি। ফলে তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি সম্পত্তির মালিকানা বুঝে নিতে উদ্যোগী হয়েছেন বলে জানা গেছে।রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দলীয় কার্যালয় নিয়ে এই নতুন জটিলতা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ফলে দিল্লি ও কলকাতা—দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেই দলের সাংগঠনিক পরিকাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।