দুর্গাপুজোর আগেই প্রতিমা বিসর্জনে কড়া নির্দেশিকা, নির্দিষ্ট ঘাটে ১০-১১ ফুট উচ্চতার প্রতিমার অনুমতি. কলকাতা, ২৪ জুন: দুর্গাপুজো শুরু হতে এখনও প্রায় তিন মাস বাকি থাকলেও, উৎসবকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। তার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল কলকাতা পুলিশ। বাগবাজার থেকে গোয়ালিয়র ঘাট পর্যন্ত বিসর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিমার উচ্চতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে বিসর্জনের সময় কোনওরকম দুর্ঘটনা না ঘটে।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগবাজার ও গোয়ালিয়র ঘাটের মধ্যবর্তী ঘাটগুলিতে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হলে প্রতিমার উচ্চতা ১০ থেকে ১১ ফুটের মধ্যে রাখতে হবে। এর প্রধান কারণ, ওই এলাকায় চক্র রেলের বৈদ্যুতিক তার এবং একাধিক লেভেল ক্রসিং রয়েছে। কিছু স্থানে বৈদ্যুতিক তারের উচ্চতা ১৭.৫ ফুট হলেও, বেশ কয়েকটি জায়গায় সেই উচ্চতা ১৭ ফুটেরও কম। ফলে বড় আকারের প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।
কলকাতা পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি উচ্চতার প্রতিমা নিয়ে বাগবাজার ও গোয়ালিয়র ঘাটের মধ্যবর্তী কোনও ঘাটে বিসর্জন করা যাবে না। সেক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের রতনবাবুর ঘাট অথবা উত্তর কলকাতার অন্যান্য ঘাট ব্যবহার করতে হবে, যেখানে চক্র রেলের লাইন বা বৈদ্যুতিক তারের সমস্যা নেই।
পুলিশ প্রশাসনের দাবি, বিসর্জনকারীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বৈদ্যুতিক তারের কাছাকাছি বড় প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি বিজেপি সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেট পেশ হয়েছে। দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আগ্রহ থাকলেও এবারের বাজেটে সে বিষয়ে বড় কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরতে বিশেষ ব্র্যান্ডিং অভিযানের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নের লক্ষ্যে পুনর্গঠন করা হবে ‘হেরিটেজ কমিশন’ এবং গড়ে তোলা হবে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ বাংলার সংস্কৃতি ও পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।