তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতবিরোধ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের খবর সামনে আসতেই দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রকাশ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন।
শনিবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একাধিক পোস্ট করে মহুয়া মৈত্র দাবি করেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন যে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু পরে টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে দিল্লিতে বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহুয়া প্রশ্ন তোলেন, কেন তিনি নিজের অবস্থান সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় এনডিএ শিবিরে বসার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাইতে পারেন। সূত্রের খবর, ভূপেন্দর যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। যদিও এই বৈঠকগুলির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে তৃণমূলের একজন বিধায়ক হওয়ায় পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সুদীপের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
মহুয়া মৈত্রের প্রকাশ্য সমালোচনা, বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংসদের আসন্ন অধিবেশনের আগে এই ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।