রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘদিনের শাসনক্ষমতা হারানোর পর দলটির অন্দরে ভাঙনের সুর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই দল বর্তমানে সাংগঠনিক সংকট, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আইনি চাপ এবং দলীয় অসন্তোষের মুখে পড়েছে।
সূত্রের দাবি, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জন এবং লোকসভার প্রায় ২০ জন সাংসদ বিক্ষুব্ধ শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন। এর জেরে দলীয় ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার কারণে জোড়াফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও আর্থিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত দলটির বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সাধারণ আমানত হিসেবে রয়েছে ৬২৫ কোটি ৭৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬৪ টাকা। এছাড়া ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা আছে আরও ২৫০ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৮ হাজার ৩২২ টাকা।
সব মিলিয়ে দলটির মোট ব্যাঙ্ক ব্যালান্স দাঁড়িয়েছে ৮৭৬ কোটি ৫৭ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৮৬ টাকা। এর পাশাপাশি প্রায় ৫০ কোটি টাকার চেক এবং কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলিতে নগদ ৩১ লক্ষ ২৮ হাজার ২৮ টাকা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে দলীয় ভাঙন এবং আইনি জটিলতা আরও বাড়লে তৃণমূলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে এই বিপুল আর্থিক তহবিল দল পরিচালনা ও নির্বাচনী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, দল ভাঙন বা প্রতীক নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে এই বিপুল অর্থের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে।