১০০ কোটিরও বেশি সম্পত্তি বেনামে হস্তান্তরের অভিযোগে গ্রেফতার অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী
রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও বিশিষ্ট গায়িকা অদিতি মুন্সীর স্বামী তথা বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পত্তি বেনামে আত্মীয়-পরিজন ও ঘনিষ্ঠদের নামে হস্তান্তর, আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি অর্জন, কোটি কোটি টাকার কর ফাঁকি এবং অর্থপাচারের মতো একাধিক গুরুতর আর্থিক অনিয়মে জড়িত তিনি। আদালতের নির্দেশের পরই পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৎকালীন বিধায়ক অদিতি মুন্সী ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী তাঁদের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দ্রুত অন্যের নামে হস্তান্তর করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনী হলফনামায়ও প্রকৃত সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানো হয়েছিল। সেই কারণে আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির অসঙ্গতি, কর ফাঁকি এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনায় অর্থপাচারের অভিযোগও যুক্ত হয়েছে।
গ্রেফতারি এড়াতে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অদিতি মুন্সী ও দেবরাজ চক্রবর্তী। আদালত চার মাসের শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে অদিতি মুন্সীকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিলেও দেবরাজ চক্রবর্তীর রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে আদালত জানিয়ে দেয়, তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং তদন্তে কোনওরকম বাধা দেওয়া যাবে না।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সম্পত্তি সংক্রান্ত অনিয়মের পাশাপাশি বিধাননগর ও রাজারহাট এলাকায় বেআইনি সিন্ডিকেট পরিচালনা, প্রোমোটারদের কাছ থেকে তোলাবাজি এবং জমি জবরদখলের মতো একাধিক অভিযোগেও দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উঠে এসেছে। এছাড়া ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলাতেও তিনি তদন্তকারী সংস্থার নজরে ছিলেন।
সম্প্রতি দেবরাজ চক্রবর্তীর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই দেবরাজের আত্মগোপনের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এরপর সেই সূত্র ধরে পুরুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।