তারাতলা দুর্ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছিলেন, তার জের এখনও কাটেনি। সেই আবহেই ফের ফেসবুক পোস্ট করে প্রাক্তন কলকাতা মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুকে কুণাল ঘোষ লেখেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল পাঁচটা একটি ‘পরীক্ষার সময়’। তাঁর দাবি, যদি তৃণমূলের কর্মসূচিতে ফিরহাদ হাকিম কাউন্সিলরদের নিয়ে উপস্থিত হন, তাহলে বোঝা যাবে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে নথি দেখিয়েছিলেন, তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, যদি তদন্তের ভিত্তিতে ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে স্পষ্ট হবে যে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়।
তবে একই পোস্টে কুণাল ঘোষ এও স্পষ্ট করেন যে, ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং তিনি সিনিয়র নেতা। শুধুমাত্র কোনও সরকারি নথিতে স্বাক্ষর থাকলেই কাউকে অপরাধী বলে মনে করেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রশাসনিক কাজের অংশ হিসেবে অনেক সময় বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করতে হয়। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলে দেওয়া উচিত নয়। তবে অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে বিহারের মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা শিব চন্দ্র কুমারের। তিনি তারাতলার ওই বহুতল গোডাউনে কর্মরত ছিলেন এবং দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েক দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালানোর পর শনিবার সকালে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুর পর তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭। ঘটনাকে ঘিরে তদন্ত যেমন এগোচ্ছে, তেমনই রাজনৈতিক চাপানউতোরও আরও জোরদার হচ্ছে।