ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ ও নিম্নমানের সামগ্রীর জেরেই তারাতলায় গুদাম বিপর্যয়, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
তারাতলার গুদাম ধসের ঘটনায় কলকাতা পৌরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা পুরসভার কমিশনারের কাছে জমা পড়া এই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ পদ্ধতি, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের কারণেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৪ কাঠা জমির উপর গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছিল। অনুমোদিত নকশা অনুসারে ৪৩ কাঠা জমিতে নির্মাণকাজ করার অনুমতি ছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা গিয়েছে, সেই সীমার বাইরে আরও প্রায় ৫ কাঠা জমিতে বেআইনিভাবে নির্মাণকাজ চলছিল। ফলে পরিকল্পনা বহির্ভূতভাবে গুদামের পরিধি বাড়ানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল। নিয়ম অনুযায়ী একতলা থেকে ধাপে ধাপে ঢালাইয়ের কাজ করার কথা থাকলেও, সেখানে তিনতলা কাঠামো তৈরি হওয়ার পর উপরের অংশ থেকে ঢালাই শুরু করা হয়। ফলে কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং সেই ভার বহন করতে না পেরে গুদামের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। পাশাপাশি নিচের অংশ যথেষ্ট মজবুত না করেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিল্ডিং বিভাগের দাবি, অনুমোদিত নির্মাণ নকশায় কোনও ত্রুটি ছিল না। পরিকল্পনা যাচাই করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। মূল সমস্যা ছিল নির্মাণকাজের উপর পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কর্মীর অভাবের কারণে বহু ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না, যার ফলে এই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়তে দেরি হয়।
অন্যদিকে, ঘটনার পর কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, কোন সংস্থা বা ঠিকাদার এই নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। তিনি বলেন, নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদন পুরসভার তরফে দেওয়া হলেও কাজের গুণমান ও ব্যবহৃত উপকরণ পরীক্ষা করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের। একইসঙ্গে তিনি উদ্ধারকাজে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসাও করেন।
এই ঘটনার পর শহরে নির্মাণ নিরাপত্তা, বেআইনি নির্মাণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।