আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে কড়া প্রশ্ন
আরজি কর মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ এবং নির্যাতিতার পরিবারের বক্তব্যকে ঘিরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে একের পর এক কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এমনকি তদন্তে আরও গাফিলতি হলে মামলাটি সিবিআইয়ের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়ারও ইঙ্গিত দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
গত ২১ মে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এদিন তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। পাশাপাশি আদালতকে জানানো হয় যে, মামলার তদন্তের জন্য নতুন করে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তবে সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ এবং পরিবারের বক্তব্যের যথাযথ প্রতিফলন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা।
শুনানির সময় বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সিবিআই কী পদক্ষেপ করেছে। তিনি জানতে চান, নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য কোথায় রয়েছে এবং সেই বক্তব্য তদন্তে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেউ যদি অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করে থাকে, তবে সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা সিবিআইয়ের দায়িত্ব।
অন্যদিকে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ আরও কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন যে, এই মামলায় সিবিআই গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। চার্জশিট জমা পড়ার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তদন্ত শেষ না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন না হলে এবং তদন্তে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে মামলাটি সিবিআইয়ের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেন বিচারপতি।
এদিন আদালতে নির্যাতিতার পরিবারও দাবি জানায়, সিবিআই তদন্তে ব্যর্থ হলে মামলাটি সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হোক। যদিও আদালত আপাতত সিবিআইয়ের উপর আস্থা রাখার কথা জানিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, নবগঠিত সিটে পুরনো কোনও তদন্তকারী আধিকারিককে রাখা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ অগাস্ট। তার আগে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখানোর বার্তা দিয়েছে হাইকোর্ট।